Header Ads

Header ADS

স্টিফেন হকিং এর উপর আমার মামলা


শৈশবকাল থেকে হকিং আমার খুব কাছের বন্ধু । অনেক বছর আগে আমি আর হকিং একসাথে রাস্তায় হাটছিলাম, তাকে বলছিলাম সব গল্পের পেছনে গল্প থাকে । সে বললো কিভাবে ? সে বললো উদাহারণ দিয়ে বুঝাতে ।

তাহলে শোন, আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তুই যে গায়ে কাপড় পড়েছিস, এইটার পেছনে গল্প নিশ্চয়ই আছে? যেমন ? আমি বললাম, প্রথমে তুলা থেকে সুতা, তারপর সেই সুতায় রং, সেই সুতা গুলো একত্রিত করে কাপড়, তারপর নকশা পেইনটিং এবং পোশাক শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ।
তখন তাকে প্রশ্ন করলাম, এই যে ধরণী দেখতেছি, নিশ্চয়ই এর সৃষ্টির পিছনে গল্প লুকিয়ে আছে , সেটা কি গল্প হতে পারে, তুই আমাকে বলতে পারবি ? সে বললো, সেটা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব না । আমি বললাম কেন সম্ভব না? যিনি এই ধরণী বানিয়েছেন, তিনি আমাদেরকে নিশ্চয়ই কোন না কোনভাবে জানিয়েছেন।
সেটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে । সে বললো, এই পৃথিবী সৃষ্টি হয় নাই, যেমনটি দেখতেছিস, ঠিক তেমনটাই অসীম সময় ধরে। কাপড়ের বেলায় তুই একমত হলি যে, পেছনের গল্প আছে, অথচ এত বড় ধরণীর বেলায় পেছনের গল্প থাকতে পারে এটার সাথে তুই একমত না কেন ? আমি তাকে বললাম, তুই যে পাগল হয়েছিস, তোর বাড়ির লোকজন কি এটা জানে ? এই কাপড় বানাতে যদি একজন দক্ষ পোশাক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, তাহলে এত সুন্দর ধরণী এমনি এমনি আজীবন ধরে থাকবে না, এটা সৃষ্টির উৎস অবশ্যই আছে । সৃষ্টির উৎস যেহেতু আছে, তাহলে সৃষ্টিকর্তা ও অবশ্যই থাকতে হবে । হকিং বললো, তাহলে তুই বল । আমি বললাম, আমি জানি না ।
আমাদেরকে খুঁজতে হবে ধর্মীয় গ্রন্থগুলো, সেখানে পাওয়া যেতে পারে, যদি মানুষ কেটে না ফেলে । আমি বললাম, হলি বাইবেল খুঁজি , সেখানে খুঁজলাম এইরকম কিছুই খুঁজে পেলাম না । ভেবে নিলাম, মানুষ বুঝতে না পেরে বাদ দিয়ে দিছে । তারপর একে একে ওল্ড টেস্টমেন্ট, নিউ টেস্টমেন্ট খুঁজলাম । হতাশ হলাম এইরকম কিছুই পেলাম না । বেদ, গীতা, ত্রিপিঠক সবই খুঁজলাম, কিন্তু কিছুই পেলাম না ।
এখন হকিংকে বললাম, মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কোরান খুঁজি । সে আমাকে হেয় করে বললো, এত গ্রন্থ খুঁজে পেলাম না, এটা তুই কোরানে খুঁজে পাবি কেমনে ? এটা মুহাম্মদের বানানো গ্রন্থ । এটাতে সাম্প্রদায়িক আয়াতে ভরপুর । আমি বললাম, তুই জানিস কেমনে ? শুনছ নাই, মিডিয়া তে প্রায়ই বলে । আমি বললাম, মিডিয়া তো ভুল হতে পারে, নিজেরা যাচাই করে নেই, তারপর কথা বলি । সে রাজি হলো আমার সাথে ।
আস্তে আস্তে কোরানের আয়াতগুলো পড়তে লাগলাম (ইংরেজিতে অনুবাদকৃত কোরান ) । কোরানের ২১ নাম্বার সূরা আম্বিয়ার ৩০ নাম্বার আয়াতে খুঁজে পেলাম (Have those who disbelieved not considered that the heavens and the earth were a joined entity, and I separated them and made from water every living thing? Then will they not believe?) অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না? ।

হকিং কে বললাম, এই দেখ? কোরানে সবকিছু সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে মাত্র এক লাইনে । সে বললো, আমি বুঝতেছি না, ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেয়। আমি বললাম, এটা দ্বারা বুঝানো হয়েছে, জমিন ও আসমান মিলিত অবস্থায় ছিলো, তারপর স্রষ্টার হুকুমে সে সব কিছু সুসজ্জিত ভাবে সৃষ্টি হয়েছে ।
যাই হোক অবশেষে কোরানে খুঁজে পেলাম শুধু ধরণী না, এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে এভাবে । আর যদি আমাদেরকে পূর্ণ তথ্য পেতে হয়, তাহলে কোরান বলতেছে, আমাদেরকে (কোরান অবিশ্বাসীদেরকে) ভেবে দেখতে হবে ।
কোরান বিশ্বাসীরা (মুসলিমরা ) এটা ব্যাখ্যা দিতে পারবে না, কারণ কোরান বলতেছে কোরান অবিশ্বাসীদের ভেবে দেখার জন্য। আজ থেকে আমরা ভেবে দেখি । আমি ভাবা শুরু করলাম এবং এই আয়াতকে সূচনা দিয়ে একটা বই লিখলাম, বইয়ের নাম দিলাম ক্রিয়েশন অফ ইউনিভার্স (মহাবিশ্বের সৃষ্টি )।
এই বইটি লিখার সময় হকিং প্রায়ই আমার বাসায় আসতো, আর সবকিছুর ব্যাখ্যা সে বুঝে নিতো । বইটির লিখা শেষ হলো, তারপর একদিন হকিং আমার বাসা থেকে চুরি করে এই বইটা নিয়ে পালিয়ে গেলো । এই তত্ত্বের ভিত্তিতে সে বিগ ব্যাঙগ থিওরি দিয়ে দিলো । এই আয়াত পড়ে আমি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস আনয়ন করলাম, আর সে অবিশ্বাসীই থেকে গেলো, তারপর কোন একদিন সে বাক প্রতিবন্ধী হয়ে গেলো, সত্যকে অস্বীকার করার কারণে ।
এই ধর্মে বিশ্বাস আনার কারণ হলো, কোরান বলতেছে এই আয়াতের শেষে (এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?) । এবং একমাত্র বই যে মহাকাশের সৃষ্টির কথা বলতেছে। তাছাড়া এই বই বলতেছে, শেষ দিবস পর্যন্ত এই বইটি অবিক্রিত থাকবে । সুতরাং বিশ্বাস এনেই ফেললাম, আর সে অবিশ্বাসী থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাসের ১৪ তারিখে মারা গেলো । শুধুমাত্র গল্পের স্বার্থে এইরকমভাবে লিখলাম, যারা হকিং এর ভক্ত তারা কিছু মনে করবেন না । এই গল্প দিয়ে হকিং কে হেয় করা হয়নি, শুধুমাত্র গল্পের স্বার্থে ।

No comments

Powered by Blogger.