Header Ads

Header ADS

আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম

বর্তমানে আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি যেখানে আমরা অধিকাংশ মুসলিমরাই শুধু যে ইবাদতের ক্ষেত্রে ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছি তা নয়, বরং চিন্তাচেতনার দিক থেকেও আমরা ইসলাম থেকে যোজন যোজন দূরে। আমাদের চিন্তাচেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছে বিভিন্ন কুফুরী দর্শনের আলোকে। আমরা ভুলে গেছি কোরআন ও হাদিসের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া জরুরী। আমরা ভুলে গেছি আল্লাহ্‌ বা রাসুল (সা) এর আদেশকৃত বিষয়ে আমাদের কিভাবে সাড়া দেয়া জরুরী। ফলে একধরনের স্বেচ্ছাচারিতা আমাদেরকে পেয়ে বসেছে। আমরা ভাবছি দুনিয়ার এই জীবনে আমরা কি করব না করব, কোনটা গ্রহণ করব আর কোনটা বর্জন করব সেটা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। ভাবছি এটা আমার স্বাধীনতা, আমার অধিকার। কিন্তু ব্যাপারটা কি আসলেই তাই!!!
.
.
ইসলাম শব্দের অর্থ আনুগত্য ও আত্নসমর্পণ করা। অন্তরে এবং বাহ্যিকভাবে আল্লাহ্‌র দেয়া বিধিবিধানের প্রতি পরিপূর্ণ আত্নসমর্পন ও আনুগত্যের মাধ্যমেই আমরা মুসলিম হিসেবে মর্যাদা লাভ করি। যেমনটা আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ
.
.
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। নিশ্চই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।"
.
.
[সূরাঃ বাকারাহ ২ঃ২০৮]
.
.
এভাবে আমরা আল্লাহ্‌র দাসত্ব স্বীকার করে নেই। একজন দাস যেরকম তার নিজের ইচ্ছায় চলে না, চলে তার মালিকের ইচ্ছায় তেমনি আল্লাহর দাস হিসেবে আল্লাহর আদেশ বা ফয়সালার বাইরে আমাদের কোন ইচ্ছা, অধিকার বা স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আমরা যদি নিজেদেরকে মুমিন বলে দাবী করি তাহলে আল্লাহ বা তার রাসুল (সা) আমাদেরকে যা আদেশ করবেন বা যা ফয়সালা করবেন তা আমাদের সম্পূর্ণরূপে মেনে নিতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের ইচ্ছা বা স্বাধীনতা নেই। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ
.
.
"যখন আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে কোন বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যায় তখন মুমিন নর ও মুনিন নারীর এই অধিকার নাই যে ইচ্ছা হলে সেটা গ্রহণ করবে আবার ইচ্ছা হলে তা বর্জন করবে। যে আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।"
.
[সূরাঃ আহযাব ৩৩ঃ৩৬]
.
.
বরং মুমিন হিসেবে আমাদের জবাব কি হবে তাও আল্লাহ্‌ বলে দিয়েছেনঃ
.
.
"মুমিনদের বক্তব্য তো কেবল এ কথাই যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের দিকে তাদেরকে আহবান করা হয়, তখন তারা বলেঃ আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম। এ ধরনের লোকেরাই সফলকাম।"
.
[সূরাঃ নূর ২৪ঃ৫১]
.
.
এটাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে। যখনই কোরআন বা সহীহ সুন্নাহ থেকে কোন বিষয় প্রমাণিত হয়ে যাবে, সাথে সাথেই আমাদেরকে তা মেনে নিতে হবে। আমাদের নিজস্ব যুক্তি-বুদ্ধি ও মতামতকে আল্লাহ্‌ ও তার রাসুল (সা) এর উপর প্রাধান্য দেয়া যাবে না। যেমনটা আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ 
.
.
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্‌ ও রাসুলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহ্‌কে ভয় কর। নিশ্চই আল্লাহ্‌ সবকিছু শুনেন ও জানেন।"
.
[সূরাঃ হুজুরাত ৪৯ঃ ১]
.
.
উপরের আলোচনায় এটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিধিবিধান মানার ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব কেমন হবে। তা হল এই যে এ ব্যাপারে আমাদের নিজেদের কোন পছন্দ বা স্বাধীনতা নেই। আমাদের জবাব হবে, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। এটাই আমাদের ঈমানের দাবী। কারন আমরা যদি রাসুল (সা) কতৃক আনীত শরীয়াহর কোন বিধিবিধান মানতে অস্বীকার করি অথবা মানার ক্ষেত্রে আমাদের মনে কোন প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা অসন্তোষ থাকে, তাহলে পবিত্র কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াত অনুযায়ী ঈমানের দাবীতে আমরা মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হব (আল্লাহর কাছে তা থেকে আশ্রয় চাই)।
.
.
"অতএব, (হে মুহাম্মদ) তোমার রবের শপথ, তারা কখনোই ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে না নিবে। অতঃপর তুমি যা ফয়সালা করবে তার ব্যাপারে নিজেদের মনের মধ্যে কোনরূপ সংকীর্ণতা পাবে না বরং তা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিবে।"
.
[সূরাঃ নিসা ৪ঃ৬৫]
.
.
আল্লাহ্‌ আমাদেরকে মু'মিন হিসেবে কবুল করে নিন।

No comments

Powered by Blogger.